Learn Al Quran Online BD logoLearn Al Quran Online BD

শিশুদের হৃদয়ে পরকালীন চেতনা

প্রবন্ধের সারসংক্ষেপ

~ 3 মিনিট পড়ার সময়

শিশুদের কোমল হৃদয়ে পরকালীন চেতনা জাগাতে না পারলে, দুনিয়ার যত সুন্দর পরিবেশেই লালন-পালন করা হোক না কেন—তারা প্রকৃত মানুষ হয়ে গড়ে উঠবে না।

 
 
শিশুর হৃদয় কোমল। ছোটবেলায় তার মনে যে চিন্তা, বিশ্বাস ও মূল্যবোধ গেঁথে দেওয়া হয়, সেগুলোই ধীরে ধীরে তার চরিত্রের অংশ হয়ে ওঠে। তাই শিশুকে শুধু ভালো পরিবেশে বড় করাই যথেষ্ট নয়। তার হৃদয়ে আল্লাহর পরিচয়, জবাবদিহির অনুভূতি এবং পরকালের বিশ্বাসও তৈরি করতে হবে।
 
শিশুদের কোমল হৃদয়ে পরকালীন চেতনা জাগাতে না পারলে, দুনিয়ার যত সুন্দর পরিবেশেই লালন-পালন করা হোক না কেন—তারা প্রকৃত মানুষ হয়ে গড়ে উঠবে না। কথাটির মধ্যে আমাদের সন্তানদের বেড়ে ওঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরা হয়েছে।
 
একটি শিশু যদি ছোটবেলা থেকেই জানতে শেখে যে আল্লাহ তাকে দেখছেন, তার প্রতিটি ভালো কাজের মূল্য আছে এবং প্রতিটি অন্যায়ের জন্য একদিন জবাব দিতে হবে, তাহলে তার ভেতরে একটি সুন্দর আত্মনিয়ন্ত্রণ তৈরি হয়। তখন বাবা-মা পাশে না থাকলেও সে অন্যায় থেকে নিজেকে দূরে রাখার চেষ্টা করবে। কারণ তাকে শুধু মানুষের ভয় নয়, আল্লাহর ভয় ও ভালোবাসাও পরিচালিত করবে।
 
আজকের পৃথিবীতে সন্তানদের সামনে নানা ধরনের আকর্ষণ ও প্রলোভন রয়েছে। ভালো স্কুল, সুন্দর পোশাক, উন্নত শিক্ষা, আধুনিক প্রযুক্তি এবং আরাম-আয়েশ তাদের জীবনকে সুন্দর করতে পারে। কিন্তু এগুলো একাই একজন শিশুকে সৎ, দায়িত্বশীল ও মানবিক মানুষ বানাতে পারে না। তার প্রয়োজন সঠিক বিশ্বাস, নৈতিক শিক্ষা এবং আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক।
 
পরকালীন চেতনা মানে শিশুর মনে সারাক্ষণ ভয় তৈরি করে দেওয়া নয়। বরং তাকে বোঝাতে হবে, এই পৃথিবীর জীবন সাময়িক এবং আমাদের কাজের একটি পরিণতি আছে। আল্লাহ ভালো কাজ পছন্দ করেন, সত্যবাদী মানুষকে ভালোবাসেন, অন্যের প্রতি দয়া করতে বলেন এবং জুলুম ও অন্যায় থেকে নিষেধ করেন। জান্নাতের আশা ও আল্লাহর রহমতের কথা শিশুর মনে আনন্দ ও ভালোবাসা তৈরি করবে।
 
শিশুরা উপদেশের চেয়ে বড়দের আচরণ থেকে বেশি শেখে। তাই বাবা-মাকে নিজের জীবনেও নামাজ, সত্যবাদিতা, আমানতদারি, ধৈর্য, ক্ষমা ও মানুষের প্রতি ভালো আচরণের উদাহরণ তৈরি করতে হবে। সন্তান ভুল করলে শুধু বকাঝকা না করে তাকে বুঝিয়ে বলতে হবে কেন কাজটি ভুল এবং কীভাবে সে নিজেকে সংশোধন করতে পারে।
 
শিশুর হাতে দুনিয়ার শিক্ষার পাশাপাশি কুরআন তুলে দিতে হবে। তাকে নবী-রাসূলদের গল্প, সাহাবিদের জীবন, জান্নাতের আশা, আল্লাহর রহমত এবং সুন্দর চরিত্রের শিক্ষা দিতে হবে। তবে সবকিছু তার বয়স ও বোঝার ক্ষমতা অনুযায়ী সহজভাবে বলতে হবে।
 
একজন শিশুর প্রকৃত সৌন্দর্য তার পোশাকে নয়, তার চরিত্রে। তার জ্ঞান তখনই অর্থবহ হয়, যখন সেই জ্ঞান তাকে সত্যবাদী করে, মানুষের উপকার করতে শেখায় এবং আল্লাহর সামনে জবাবদিহির কথা মনে করিয়ে দেয়।
 
তাই আমাদের দায়িত্ব শুধু সন্তানকে সফল মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা নয়। তাকে সৎ মানুষ, দায়িত্বশীল মানুষ এবং আল্লাহভীরু মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা। শৈশবেই যদি তার কোমল হৃদয়ে পরকালের বিশ্বাস ও আল্লাহর প্রতি ভালোবাসার বীজ বপন করা যায়, ইনশাআল্লাহ সেই বীজ একদিন সুন্দর চরিত্রের বৃক্ষে পরিণত হবে।